হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, হাওজার উচ্চতর ফিকহ ও উসূলের শিক্ষক উস্তাদ মাহদি হাদভি তেহরানি এক বার্তায় ইরান ও ইরাকের জনগণের বীরত্বপূর্ণ উপস্থিতির প্রশংসা করে এই স্বতঃস্ফূর্ত গণজাগরণকে বিশ্ব-আধিপত্যবাদী শক্তির মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিষেধক বলে উল্লেখ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই বিদায় অনুষ্ঠানের মহিমা যুক্তরাষ্ট্রের আত্মমুগ্ধ রাষ্ট্রপতিকে অসংলগ্ন কথা বলতে বাধ্য করেছে এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে কয়েক দশকের প্রচারণার অসত্যতা বিশ্ববাসীর কাছে উন্মোচিত করেছে।
বার্তার পাঠ নিম্নরূপ:
بسم الله الرحمن الرحیم
سَلاَمٌ عَلَیْکُمْ بِمَا صَبَرْتُمْ فَنِعْمَ عُقْبَی الدَّارِ ﴿ الرعد، ۲۴﴾
"অবশ্যই উঠে দাঁড়াতে হবে"-এই স্লোগানকে ধারণ করে ইরানের শহীদ নেতাকে বিদায় জানানোর মহিমা বিশ্ববাসীকে বিস্মিত করেছে এবং শত্রুদের ক্রোধকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ইরান ও ইরাকের আল্লাহবিশ্বাসী জনগণ, বরং বিশ্বের নানা প্রান্তের সত্যসন্ধানী মানুষেরা এই শোকাবহ মুহূর্তে এক অনুপ্রেরণামূলক মহাকাব্য রচনা করেছেন। তাঁদের ভালোবাসা ও নিষ্ঠা ষড়যন্ত্রকারীদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে দিয়েছে এবং ফেরাউনের জাদুকরদের জাদুর মতো প্রতারণাকেও নিষ্ফল করে দিয়েছে।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এবং এর শক্তিশালী ও নিষ্ঠাবান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কয়েক দশকের প্রচারণার অসত্যতা মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে। দীর্ঘদিনের মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্রের জন্য নির্লজ্জ মিথ্যাবাদীরা লজ্জিত ও বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে এবং বিশ্ববাসীর তিরস্কারপূর্ণ দৃষ্টি থেকে নিজেদের আড়াল করতে ভিত্তিহীন দাবির আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেছে।
প্রতিশোধের দাবিতে জনগণের উচ্ছ্বাস এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, যুক্তরাষ্ট্রের আত্মমুগ্ধ ও অযোগ্য রাষ্ট্রপতি ভয় থেকে সৃষ্ট বিভ্রমে অসংলগ্ন কথা বলতে শুরু করেন এবং তাঁর তোষামোদকারী সহযোগীরাও এক ধরনের অসুস্থ ব্যস্ততায় ছুটোছুটি করতে বাধ্য হন।
এই বিশ্বস্ত জনগণের প্রতি কোন ভাষায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা যায়? মহান আল্লাহ ছাড়া আর কে-ই বা তাঁদের যথাযথ প্রতিদান দিতে সক্ষম?
এই স্বতঃস্ফূর্ত গণআন্দোলনের প্রতি নির্বাহী, রাজনৈতিক, সামরিক এবং এমনকি বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের সহমর্মিতা ও সমর্থনও বিশেষভাবে প্রশংসার দাবিদার।
আমরা আশা করি, জ্ঞানী নেতৃত্ব, জনসেবায় নিবেদিত কর্মকর্তাদের প্রচেষ্টা এবং বিশ্বস্ত জনগণের ঐক্যের আলোকে গৌরবময় ইরান বিশ্বে আল্লাহর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের এক সুস্পষ্ট প্রতীক হয়ে উঠবে এবং প্রতিটি দিন আগের দিনের চেয়ে আরও উজ্জ্বল হবে।
وَ مَا جَعَلَهُ اللَّهُ إِلاَّ بُشْرَی لَکُمْ وَ لِتَطْمَئِنَّ قُلُوبُکُمْ بِهِ وَ مَا النَّصْرُ إِلاَّ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ الْعَزِیزِ الْحَکِیمِ ﴿ آلعمران، ۱۲۶﴾
মাহদি হাদভি তেহরানি
কোম, আহলে বাইত (আ.)-এর নিবাস
২০ তীর ১৪০৫ হিজরি শামসি
২৬ মহররম ১৪৪৮ হিজরি
আপনার কমেন্ট